helpline: 01777777090
Complain Apply for Claim Contact Us

‘সচেতনতার অভাবে পিছিয়ে আছে বীমা খাত’

রাসেল মাহমুদ

সচেতনতার অভাবে বীমা খাত পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম নুরুজ্জামান।

তিনি বলেন, বীমা কোম্পানিকে এখনো অনেকে মনে করেন এনজিও, এমএলএম বা সমবায় সমিতি। বীমা সম্পর্কে কম জানা থাকায় এই ধারনা প্রচলিত হয়ে গেছে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) মতিঝিলে জেনিথ ইসলামী লাইফের কার্যালয়ে বাণিজ্য বার্তাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এস এম নুরুজ্জামান বলেন, বীম সম্পর্কে এই কম জানাটা শুধু যে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নয়; শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও এই অসচেতনতা রয়েছে। সত্যিকার অর্থে সামাজিকভাবেই মানুষ বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তারা মনে করেন, বীমা কোম্পানিতে টাকা জমা দিলে সেটা পেতে জুতার তলা ক্ষয় হয়। বীমার টাকা পাওয়া যায় না, কোম্পানি চলে যাবে- এমন নানা কথা সমাজে প্রচলিত আছে।

তিনি বলেন, মানুষের অসচেতনতার পাশাপাশি কর্মীদের প্রতারণাও বীমায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ আগে অনেক কর্মী গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়েও কোম্পানিতে জমা দিতেন না। এতে বড় একটি প্রভাব পড়েছে এই খাতে। এখন অবশ্য সেই সুযোগ নেই। কারণ এখন ডিজিটাল হওয়া ১০০ ভাগ টাকা জমা হচ্ছে। গ্রাহক সচেতন হলে ক্রাইম করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ সচেতনতাই বীমার অনাস্থা কাটিয়ে তুলতে পারে।

আগামী ২৫ এবং ২৬ নভেম্বর বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বীমা মেলা নিয়েও কথা বলেছেন এস এম নুরুজ্জামান। বলেন, বীমা মেলার সুদুর প্রসারী একটা প্রভাব আছে। বাংলাদেশে বীমার প্রতি মানুষের যেহেতু নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে; মেলা সেই ধারনা কিছুটা হলেও পরিবর্তন করবে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমাকে জনপ্রিয় করার জন্যই বীমা মেলা আয়োজন করতে শুরু করে। এতে ফলও হয়েছে। মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বীমা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা পৌঁছে দেওয়া সহজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, বীমা মেলা মানুষের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি করে। কারণ এখন ডিজিটাল যুগ। বরিশালে মেলা হলেও এই বার্তা পৌঁছে যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রচারণা বাড়বে। তাছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে কোম্পানিগুলোও গ্রাহকের দাবির বিষয়ে সতর্ক হবে। শুধু দাবি পরিশোধ হবে বিষয়টি তা নয়, অনেক পলিসিও বিক্রি হবে।

তার মতে, বীমা পেশায় যারা ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের জন্যও বড় একট সুযোগ তৈরি করবে এই মেলা। অর্থাৎ মেলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির বড় একটা সুযোগ তৈরি হবে।

বীমা খাতের অনাস্থার কয়েকটি কারণও তুলে ধরেছেন এস এম নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, বীমার অনাস্থা কয়েক ধরনের আছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো- দ্রুত দাবি পরিশোধ না করা। অনাস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে অবশ্যই সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে ম্যাচিউরিটির টাকা পরিশোধের জন্য কোনো তদন্ত দরকার না হলেও ক্লেইম নিষ্পত্তির জন্য তদন্ত দরকার হয়। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের সচেতনা দরকার। টাকা জমা দেওয়ার সময়ও গ্রাহকের সচেতন থাকা জরুরি। প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পর তা আসলেই জমা হলো কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। গ্রাহক সচেতন হলে ক্রাইম করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ সচেতনতাই বীমার অনাস্থা কাটিয়ে তুলতে পারে।

বরিশালের বীমা মেলায় জেনিথ ইসলামী লাইফের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বীমা মেলায় আমাদের স্বচ্ছ উপস্থিতি থাকবে। স্টল থাকবে, শোভাযাত্রায় অংশ নেবো। গ্রাহককে আমাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমাদের বেশ কিছু নতুন প্রডাক্ট এসেছে, সেগুলো পরিচিত করার চেষ্টা করা হবে। মেলা উপলক্ষে বরিশালে আমাদের কার্যক্রম আরও বেগবার করতে চাই। বিশেষ করে আমাদের লক্ষ্য থাকবে সংগঠন ও ব্যবসা বৃদ্ধির দিকে। সেইভাবেই আমরা পরিকল্পনা করেছি। এগুলো তুলে ধরতে গ্রাহক-সুধিজনদের নিয়ে একটি সেমিনারও আমরা করবো।

জেনিথ ইসলামী লাইফের দাবি পেন্ডিংয়ের বিষয়ে এস এম নুরুজ্জামান বলেন, বরিশালেতো আমাদের দাবি পেন্ডিং নেই-ই সামগ্রিকভাবেও দাবি পেন্ডিং নেই। বিশেষ করে কোম্পানিতে যারা কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাদের দাবি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

নিউজ লিংক এখানে>

Log In